মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৩rd নভেম্বর ২০১৭

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ।


প্রকাশন তারিখ : 2017-11-06

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। সোমবার (৩০ অক্টোবর 2017) প্যারিসে ইউনেস্কোর প্রধান কার্যালয়ে এ ঘোষণা দেন মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’ -এ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এটি ইউনেস্কো দ্বারা পরিচালিত বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ঐতিহ্যের একটি তালিকা। আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব রয়েছে এমন বিষয়গুলোকেই এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতির ফলে সারা বিশ্ব এখন আরও বিশদভাবে বঙ্গবন্ধু এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ বিশ্বের বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিষয় তালিকাভুক্তির জন্য সুপারিশ করে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি (আইএসি)। গত ২৪-২৭ অক্টোবর আইএসি কমিটির সভায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ তালিকাভুক্তির বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক দলিলে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যের সংখ্যা এখন ৪২৭টি। ইতিহাসের পাতায় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরঃ এ দেশের মুক্তিকামী জনগণের সাথে একাত্মতা বোধ করেছিলেন স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এই অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। বর্তমানে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রাম, অমর একুশ, ৬-দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, জাতিসংঘে প্রদত্ত ভাষণ এবং মুক্তিযুদ্ধ ও সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম কিংবা জাতির পিতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ যা কিছু আজ বিভিন্ন চলচ্চিত্র মাধ্যমে বা টিভি চ্যানেলে দেখা যায়, তা মূলত: ডিএফপি’র সৃষ্টি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ধারণ ও সংরক্ষণ করে মুক্তির ইতিহাস নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন এই অধিদপ্তরের সাহসী কর্মীগণ। সেই ইতিহাসও কম গৌরবময় নয়। তদানীন্তন চলচ্চিত্র বিভাগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ রেকর্ড করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এ ভাষণটি নষ্ট করতে পারে এ আশঙ্কায় চলচ্চিত্র বিভাগের তদানীন্তন পরিচালক মহিবুর রহমান খা (অভিনয় জগতে যিনি আবুল খায়ের নামে পরিচিত ছিলেন) চলচ্চিত্র বিভাগের তদানীন্তন সহকারী চিত্রগ্রাহক আমজাদ আলী খন্দকারকে দায়িত্ব দেন ভাষণের কপি ও আরো কিছু ফুটেজ নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে। দেশ স্বাধীন হলে ৭ই মার্চের ভাষণের রিল পুনরায় চলচ্চিত্র বিভাগের স্টোরে সংরক্ষিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের পরও ষড়যন্ত্রকারীরা ভাষণের রিলটি নষ্ট করার লক্ষ্যে চলচ্চিত্র বিভাগে তল্লাশি চালায়। কিন্তু বিভাগের কর্মীরা ভাষণের মূল পিকচার নেগেটিভ ও সাউন্ড নেগেটিভ অন্য একটি ফুটেজের ক্যানে লুকিয়ে রাখে। এভাবেই বেঁচে যায় ৭ই মার্চের ভাষণ। ৭ মার্চ-এর ঐতিহাসিক ভাষণ রেকর্ডিং-এ অংশগ্রহণকারী কলাকুশলীবৃন্দ: জেড এম এ মবিন ক্যামেরাম্যান এম এ রউফ ক্যামেরাম্যান আমজাদ আলী খন্দকার ক্যামেরা সহকারী এস এম তৌহিদ ক্যামেরা সহকারী সৈয়দ মইনুল আহসান ক্যামেরা সহকারী জোনায়েদ আলী ক্যামেরা সহকারী খলিলুর রহমান এম এল এস এস মাইক সরবরাহ করেছিল কল রেডি নামক একটি প্রতিষ্ঠান। ৯ এপ্রিল, ১৯৭১ সচিবালয়ের টিনশেড থেকে ৭ই মার্চের ভাষণসহ আরো কিছু ফুটেজ ৪২ ইঞ্চি একটি ট্রাংকে ঢোকানো হয়। বেবিট্যাক্সিতে ওঠানো হয় ট্রাংকটি। বেবিট্যাক্সি রওয়ানা হয় সোয়ারি ঘাটের উদ্দেশে। সারা রাস্তায় উদ্ধত বেয়নেট হাতে দখলদার বাহিনী টহলরত। আমজাদ আলী খন্দকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সচিবালয় গেট থেকে সোয়ারি ঘাট পর্যন্ত টহলরত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চোখ এড়িয়ে যেতে থাকেন তাঁর গ্রামের ঠিকানায়। তিনি জিঞ্জিরা হয়ে পৌঁছে যান মুন্সিগঞ্জের জয়পাড়া মজিদ দারোগার বাড়িতে। পেছনে পেছনে আসেন জনাব মহিবুর রহমান খা। মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন যাঁরা ক্রমিক নং নাম সর্বশেষ পদবি কর্মকাল ১ নূরুল আবছার এলডিএ কাম টাইপিস্ট শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ২ বেলায়েত হোসেন চিত্র বিতরণ ব্যবস্থাপক ৩ মশিহুর রহমান প্রধান সহকারী ৪ মোঃ আরশাদ আলী সহকারী চিত্র প্রযোজক ১৭-০৫-১৯৭৭ থেকে ০১-০৫-২০১৩ ৫ মোঃ আলী হোসেন সহকারী ল্যাব সুপার ০৩-০৩-১৯৮১ থেকে ৩০-১২-২০০৯ ৬ মোঃ নূর উদ্দিন ম্যানেজার ৩১-০৭-১৯৭২ থেকে ০৯-০১-২০১৬ ৭ মানিক উল্লাহ মন্ডল সহকারী প্রকাশনা রেজিস্ট্রারার ১৮-০৩-১৯৭৭ থেকে ২৮-০২-২০১০ ৮ নূর মোহাম্মদ দরজী প্রিন্টিং সহকারী ২৪-০৩-১৯৮১ থেকে ১২-১০-২০১২ ৯ মোঃ সোহরাব হোসেন পরিদর্শক ২২-০৬-১৯৭৬ থেকে ১৮-০৯-২০১২ ১০ মোঃ সামসুজ্জামান খান বুম অপারেটর ০১-০৬-১৯৭২ থেকে ০২-০৪-২০১২ ১১ মোঃ আব্দুর রহমান শব্দগ্রাহক ১৬-০১-১৯৮৩ থেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আবছার কর্মরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন ও শহিদ হন। তিনি ছাড়া বাকিরা কিশোর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, পরবর্তীতে এ অধিদপ্তরে বিভিন্ন পদে যোগ দিয়ে সুনাম ও নিষ্ঠার সাথে দেশের সেবা করেছেন।


Share with :
Facebook Facebook