মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৮ মার্চ ২০১৮

৭ই মার্চ ২০১৮ উদযাপন


প্রকাশন তারিখ : 2018-03-07

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমাবেশে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত ৩০শে অক্টোবর ২০১৭ তারিখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসাবে জাতিসঙ্ঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর মে্মরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারভুক্ত হয় যা বাঙালি জাতির জন্য এক গৌরবময় অর্জন । বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ধারণ ও সংরক্ষণ করে মুক্তির ইতিহাস নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সাহসী কর্মীগণ। সেই ইতিহাসও কম গৌরবময় নয়। তদানীন্তন চলচ্চিত্র বিভাগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ রেকর্ড করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এ ভাষণটি নষ্ট করতে পারে এ আশঙ্কায় চলচ্চিত্র বিভাগের তদানীন্তন পরিচালক মহিবুর রহমান খাঁ (অভিনয় জগতে যিনি আবুল খায়ের নামে পরিচিত ছিলেন) চলচ্চিত্র বিভাগের তদানীন্তন সহকারী চিত্রগ্রাহক আমজাদ আলী খন্দকারকে দায়িত্ব দেন ভাষণের কপি ও আরো কিছু ফুটেজ নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে। দেশ স্বাধীন হলে ৭ই মার্চের ভাষণের রিল পুনরায় চলচ্চিত্র বিভাগের স্টোরে সংরক্ষিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের পরও ষড়যন্ত্রকারীরা ভাষণের রিলটি নষ্ট করার লক্ষ্যে চলচ্চিত্র বিভাগে তল্লাশি চালায়। কিন্তু বিভাগের কর্মীরা ভাষণের মূল পিকচার নেগেটিভ ও সাউন্ড নেগেটিভ অন্য একটি ফুটেজের ক্যানে লুকিয়ে রাখে। এভাবেই বেঁচে যায় ৭ই মার্চের ভাষণ। ৯ এপ্রিল, ১৯৭১। সচিবালয়ের টিনশেড থেকে ৭ই মার্চের ভাষণসহ আরো কিছু ফুটেজ ৪২ ইঞ্চি একটি ট্রাংকে ঢোকানো হয়। বেবিট্যাক্সিতে ওঠানো হয় ট্রাংকটি। বেবিট্যাক্সি রওয়ানা হয় সোয়ারি ঘাটের উদ্দেশে। সারা রাস্তায় উদ্ধত বেয়নেট হাতে দখলদার বাহিনী টহলরত। আমজাদ আলী খন্দকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সচিবালয় গেট থেকে সোয়ারি ঘাট পর্যন্ত টহলরত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চোখ এড়িয়ে যেতে থাকেন তাঁর গ্রামের ঠিকানায়। তিনি জিঞ্জিরা হয়ে পৌঁছে যান মুন্সিগঞ্জের জয়পাড়া মজিদ দারোগার বাড়িতে। পেছনে পেছনে আসেন জনাব মহিবুর রহমান খাঁ। ৭ মার্চ-এর ঐতিহাসিক ভাষণ রেকর্ডিং-এ অংশগ্রহণকারী কলাকুশলীবৃন্দ: জেড এম এ মবিন ক্যামেরাম্যান এম এ রউফ ক্যামেরাম্যান আমজাদ আলী খন্দকার ক্যামেরা সহকারী এস এম তৌহিদ ক্যামেরা সহকারী সৈয়দ মইনুল আহসান ক্যামেরা সহকারী জোনায়েদ আলী ক্যামেরা সহকারী খলিলুর রহমান এম এল এস এস মাইক সরবরাহ করেছিল কল রেডি নামক একটি প্রতিষ্ঠান। '৭ মার্চ ২০১৮। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভ করায় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এমপি আজকের এই আনন্দ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিটিভির উপমহাপরিচালক (সংবাদ) মোঃ নাসির উদ্দিন, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান এবং অধিদপ্তরের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন নবারুণ পত্রিকার সম্পাদক নাসরীন জাহান লিপি। শুরুতেই প্রদর্শিত হয় এই অধিদপ্তরের সহকারী প্রযোজক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা আব্দুল্লাহ আল হারুণ নির্মিত তথ্যচিত্র 'স্বাধীনতা কী করে আমাদের হলো'।'


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০১৮ উপলক্ষে ১৭ মার্চ তারিখে জাতির পিতার সমাধিস্থল টুঙ্গিপাড়ায় বইমেলায় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের স্টল পরিদর্শন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় স্টলে উপস্থিত ছিলেম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসতাক হোসেন, নবারুণ সম্পাদক নাসরীন জাহান লিপি এবং উপপরিচালক প্রশাসন ও প্রকাশনা হাছিনা আক্তার।


Share with :

Facebook Facebook